শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০১:০১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
কুমিল্লায় ৩৮ দিন পর শিশু’র লাশ উদ্ধার লুটপাট-দুর্নীতি রুখতে মুক্তিযুদ্ধের পুনর্জাগরণের ডাক কুমিল্লার মুরাদনগরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীর তানোরে আলুর জমিতে আছড়ে পড়ল প্রশিক্ষণ বিমান’ পাইলট আহত অপর প্রশিক্ষণার্থী অক্ষত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার-৪২ বিজিবির চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে গোদাগাড়ীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা-হেরোইন উদ্ধার যুবক আটক রংপুরে প্রথম ওমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি টুর্নামেন্ট’র খেলা শুরু র‌্যাব-৫ এর অভিযানে বিদেশী পিস্তল’ ওয়ান শুটারগান, গুলি ও ম্যাগজিনসহ ০১ অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার মোহনপুরে পূজা মন্দিরের নিরাপত্তায় কাজ করছে সশস্ত্র আনসার সদস্যরা রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএস আই কর্তৃক নবম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ!

আবরার হত্যার বিচার চান আসামী রবিন ও অনিকের পরিবার

হানিফ সরকার, রাজশাহী  থেকে :

বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত ১৯ আসামীর মধ্যে দুইজনের বাড়ি রাজশাহীতে।এরা হলেন মেহেদী হাসান রবিন (২২) ও অনিক সরকার (২২)। তারা দুইজনের ২০১৫ ব্যাচের ছাত্র। থাকেন শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র।

এদের মধ্যে মামলার ৪ নম্বর আসামী মেহেদী হাসান রবিনের বাড়ি পবা উপজেলার কাটাখালি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ব কাপাসিয়ায়। তিনি স্কুল শিক্ষক মাকসুদ আলীর একমাত্র ছেলে। মেহেদী হাসান রবিন বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

আর ৩ নম্বর আসামী অনিক সরকারের বাড়ি মোহনপুর উপজেলার বড়ইকুড়ি গ্রামে। তিনি কাপড় ব্যবসায়ী আনোয়ার সরকারের ছেলে। অনিক সরকার বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক।

আবরার হত্যাকান্ডের পর রাজশাহীতে আলোচনায় আসেন এলাকায় নিরীহ এবং শান্তি ছেলে হিসেবে পরিচিত রবিন ও অনিক। তাদের পরিবারের কে কোন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এ নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালচনায় এসেছে পরিবার দুইটি। তবে উভয় পরিবার তাদের সন্তানদের এমন কৃতকর্মে হতাশ। সন্তানরা যদি সত্যিই দোষি হয় তবে তাদের বিচার চান পরিবারের সদস্যরা।

কাটাখালি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘এলাকায় খুব নিরীহ ও শান্ত ছেলে হিসেবে পরিচিত রবিন। তিনি এলাকার ছেলেদের সঙ্গে তেমন মিশতনা বা কথা বলতো না। রবিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সে বিষয়টিও এলাকার কেউ জানতো না।’

বিএনপিপন্থী কাউন্সিলর আসাদ আরও বলেন, ‘রবিনের দাদা ও চাচা দুজনেই জামায়াতে ইসলামির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রবিনের দাদা মমতাজ উদ্দিন জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে একবার কাউন্সিলর নির্বাচনও করেছেন। আর চাচা ইমরান আলী সক্রিয়ভাবে জামায়াতের রাজনীতি করতেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে চারটি নাশকতার মামলা রয়েছে।’

আসাদ বলেন, ‘রবিনের বাবা মাকসুদ আলী ভাবিচা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। বর্তমানে তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য। মূলত শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।’

রবিনের বাবা মাকসুদ আলী বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তিনি। তবে রবিনের দাদা ও চাচা এক সময় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন তারা নিস্কৃয়। কলেজের চাকরি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রবিনের চাচাকে চারটি নাশকতার মামলায় আসামী করা হয়’ বলে দাবি করেন মাকসুদ আলী।

মাকসুদ বলেন, ‘রবিন বুয়েটে ভর্তি হওয়ার পর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে তা বছর খানেক আগে জানতে পেরেছি। তাকে রাজনীতি না করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু শুনেনি। রবিন যদি এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে তবে তার সাজা হবে। এতে আমাদের কিছু বলার নেই’ বলে জানান রবিনের বাবা।

এদিকে, আররার হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামী অনিকের বাবা আনোয়ার হোসেন সরকার এলাকায় একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। রয়েছে কাপড়সহ পেট্রোলপাম্প ও সারের ডিলারের ব্যবসা। দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট অনিক। নৃশংস এই হত্যাকান্ডে হতবাক অনিকের পরিবারও। এসএসপি পরীক্ষার পর থেকে অনিক ঢাকাতেই লেখাপড়া করছে। অনিক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল তা জানেনা তার পরিবারের সদস্যরা।

মোহনপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘অনিক যে বুয়েটের ছাত্রলীগের নেতা আমরা তা কখনোই শুনিনি। গনমাধ্যমের খবর দেখে আমরা জানতে পারি অনিক ছাত্রলীগ করে।’

অনিকের এক মামা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জাড়িত বলে জানিয়ে রাজ্জাক বলেন, ‘তার বাপ চাচারা সবাই বিএনপি করে। সে কিভাবে ছাত্রলীগ করে। তাকে পদ দেয়ার আগে তার পরিবারটা দেখা উচিত ছিল।’

অনিকের বাবা আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, ‘কারো সন্তান যেনো এমন না হয়; এমনটা না করে। আমি আশা করব অনিকের মত আর কেউ যেনো ভুল পথে না যায়। আইন সবার জন্য সমান। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার ছেলে অপরাধি হলে প্রচলিত আইনে তার যে সাজা হবে আমি মেনে নেবো। আমি চাই আমার ছেলের বিচার হোক।’

নিজে কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয় দাবি করে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অনিক রাজশাহীতে থাকা অবস্থায় কোনো রাজনীতি করতো না। কারো সাথে তেমন মিশতোও না। কি করে সে রাজনীতিতে প্রবেশ করলো তা জানি না। আমরা জানি অনিক সেখানে পড়ালেখা করছে। যখন জানতে পারলাম অনিক এক ছাত্রকে হত্যা করেছে। সেই দায়ে তাকে আটক করেছে পুলিশ। আমারা অবাক হয়ে গেছি। কখনো ভাবিনি আমার ছেলে কাউকে খুন করবে।’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অনিক সরকারের ডাক নাম অপু। সে ছোট থেকেই মেধাবী। তিনি মোহনপুর কেজি স্কুল থেকে ৫ম শ্রেনীতে ট্যালেনপুলে বৃত্তি পেয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ৮ম শ্রেণীতেও ট্যালেনপুলে বৃত্তি পান তিনি। ২০১৩ সালে একই বিদ্যালয় হতে জিপিএ ৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন তিনি। এর পর ঢাকা নটরডেম কলেজে ভর্তি হন এবং জিপিএ ৫ পেয়ে ২০১৫ সালে এইচএসসি পাস করেন। একই সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হন। তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র।

সাইবার নিউজ একাত্তর/ ১১ অক্টোবর  ২০১৯ ইং/ আব্দুর রাজ্জাক (রাজু)

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

খন্দকার ভবন তানোর থানার মোড় প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন তানোর, রাজশাহী থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১৫-২৯৭৫২৪, ০১৭১৬-৮৪৪৪৬৫, ০১৯২০-৪৪০১১২ E-mail: cbnews71@gmail.com Web: www.cybernews71.com Facebook: www.facebook.com/cbnews71 www.twitter.com/CyberNews71 Youtube: //www.youtube.com/cbnews71

© কপিরাইট : খন্দকার মিডিয়া গ্রুপ

 বাল্যবিবাহ রোধ করুন, মাদক মুক্ত সমাজ গড়ুন।

ব্রেকিং নিউজ :