সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
কুমিল্লায় ৩৮ দিন পর শিশু’র লাশ উদ্ধার লুটপাট-দুর্নীতি রুখতে মুক্তিযুদ্ধের পুনর্জাগরণের ডাক কুমিল্লার মুরাদনগরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীর তানোরে আলুর জমিতে আছড়ে পড়ল প্রশিক্ষণ বিমান’ পাইলট আহত অপর প্রশিক্ষণার্থী অক্ষত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার-৪২ বিজিবির চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে গোদাগাড়ীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা-হেরোইন উদ্ধার যুবক আটক রংপুরে প্রথম ওমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি টুর্নামেন্ট’র খেলা শুরু র‌্যাব-৫ এর অভিযানে বিদেশী পিস্তল’ ওয়ান শুটারগান, গুলি ও ম্যাগজিনসহ ০১ অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার মোহনপুরে পূজা মন্দিরের নিরাপত্তায় কাজ করছে সশস্ত্র আনসার সদস্যরা রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএস আই কর্তৃক নবম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ!

ঈশ্বর সর্বব্যাপী সর্বত্র এক হলে আজ এত দেব-দেবী কেন…!

উজ্জ্বল রায় নড়াইল থেকে :

ঈশ্বর সর্বব্যাপী সর্বত্র এক হলে আজ এত দেব-দেবী কেন, শ্রীমদ্ভগবদগীতার নবম অধ্যায়ের ১৬ থেকে ১৯তম শ্লোকে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন,“আমি শ্রৌত যজ্ঞ, আমি স্মার্ত যজ্ঞ, আমি পিতৃযজ্ঞ, আমি ঔষধি অন্ন বা ভেষজ, আমিই হোমাদি সাধন ঘৃত, আমি অগ্নি, আমি এ জগতের পিতা-মাতা-বিধাতা-পিতামহ যা কিছু এবং সব পবিত্র বস্তু তা আমিই। আমি ব্রহ্মবাচক ওঙ্কার আমি ঋগ্, সাম,যজুর্বেদ স্বরূপ। আমি গতি আমি প্রভু, আমি শুভাশুভ, আমি রক্ষক, আমি স্রষ্টা, আমি সংহর্তা এবং আমি ভ‚মি হতে জল আকর্ষন করি, আমিই পুর্নবার জল বর্ষণ করি। আমি জীবের জীবন, আমিই জীবের মৃত্যু অর্থাত্ দেখা যাচ্ছে ঈশ্বর শুধু আমাদের সৃষ্টি কর্তাই নন, তিনিই সবকিছু বা সবকিছুতেই তিনি আছেন। ঈশ্বর সর্বব্যাপী এবং সর্বত্র বিরাজমান বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে একটিই ‘সত্ত¡া আছে তা হলো ঈশ্বর আর অন্য সবকিছু তাঁরই ‘বহুরূপে প্রকাশ মাত্র। অর্থাত্ সর্বভ‚তের ন্যায় সর্ব দেবতাও একই ঈশ্বরের গুনের বিভিন্ন রূপের প্রকাশ। আমরা দেব দেবীর প‚জা করি ঠিক।

দেব দেবীরা হলেন এক ঈশ্বরের বিভিন্ন শক্তির রূপ। সুতরাং আমরা যারই প‚জা করি কি না তিনি এক ঈশ্বরের। শ্রীমদ্ভগবদগীতার চতুর্থ অধ্যায়ের ১১তম শ্লোকে ভগবান স্বয়ং বলেছেন : যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাং স্তথৈব ভজাম্যহম্। মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ অনুবাদ হ অর্জুন, যে ব্যক্তি যেভাবে আমাকে ভজন করে, সে ব্যক্তিকে আমি সেভাবে তুষ্ঠ করি। সহজ কথায় ভগবানের বিভিন্ন শক্তিকে আমরা বিভিন্ন দেবদেবী রূপে প‚জা করে থাকি। তবে ভগবানকে আমরা কখনো বহু চিন্তা করি না। আমাদের চারপাশে আমরা যে সব দেব দেবীর প‚জা করি বা হতে দেখি ম‚লত তা ঈশ্বরের বিভিন্নরূপের প্রতীকেরই প্রার্থনা করি। অপরদিকে দুর্গা প‚জার সময় মন্ডপে মন্ডপে গেলে গনেশের পাশে লালপাড় সাদা শাড়ীতে ঘোমটা ঢাকা একটি কলাগাছ দেখতে পাই। অনেকেই এটিকে কলাবৌ ও গনেশের স্ত্রী হিসাবে বলে থাকেন। কিন্তু আদৌ এটি শ্রীগনেশের বৌ নয়। এটিকে ‘নবপত্রিকা বলা হয়। একটি মা দুর্গা অর্থাৎ গনেশের জননী। গনেশের স্ত্রীদের নাম রিদ্ধি ও সিদ্ধি। নব পত্রিকার আক্ষরিক অর্থ বোঝায় নয়টি পাতা। কিন্তু এখানে নয়টি উদ্ভিদ দিয়ে নবপত্রিকা গঠন করা হয়।

এই নয়টি উদ্ভিদ মা দুর্গার নয়টি শক্তির প্রতীক। এই নয়টি উদ্ভিদ হল-কদলী বা রম্ভা (কলাগাছ), কচু, হরিদ্রা (হলুদ), জয়ন্তী, বিল্ব ( বেল), দাড়িম্ব ( ডালিম), অশোক, মান ও ধান। একটি সপত্র কলাগাছের সাথে সাদা অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে লাল পাড় সাদা শাড়ী পরিয়ে ঘোমটা দিয়ে বধ‚র আকার দেওয়া হয়। তারপর তাতে সিঁদ‚র দিয়ে দুর্গা দেবীর ডানপাশে রাখা হয়। একটি গনেশের ডানপাশে দেখা যায়। আসুন এবার নয়টি উদ্ভিদের অধিষ্টাত্রী দেবী সমন্ধে জানি কলাগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী ব্রহ্মাণী, কচুগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী কালিকা, হরিদ্রাগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী উমা, জয়ন্তীগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী কার্ত্তিকী, বিল্বগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী শিবা, দাড়িম্বগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী রক্তদন্তিকা, অশোকগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী শোকরহিতা, মানগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী চামুন্ডা ও ধানগাছের অধিষ্টাত্রী দেবী ল²ী। সপ্তমীর সকালে পুরোহিত নিজেই নবপত্রিকাকে নিয়ে নিকটস্থ কোন নদী বা পুকুরে স্নান করাতে নিয়ে যান। সাথে মহিলারা উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনি করতে করতে যান। শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী স্নান করানোর পর নবপত্রিকাকে নতুন শাড়ী পরানো হয়। তারপর প‚জামন্ডপে নিয়ে এসে নবপত্রিকাকে মা দুর্গার ডানদিকে একটি কাষ্ঠ সিংহাসনে স্থাপন করা হয়। প‚জা মন্ডপে নবপত্রিকা প্রবেশের মাধ্যমে দুর্গাপ‚জার ম‚ল অনুষ্ঠানটির প্রথাগত স‚চনা হয়।

নবপত্রিকা প্রবেশের পর দর্পণে দেবীকে মহাস্নান করানো হয়। এরপর বাকি দিনগুলিতে নবপত্রিকা প্রতিমাস্থ দেবদেবীদের সঙ্গেই প‚জিত হতে থাকেন। বিশেষ ভাবে লক্ষনীয় হল, নবপত্রিকা প্রবেশের প‚র্বে পত্রিকার সন্মুখে দেবী চামুন্ডার আবাহন ও প‚জা করা হয়। পত্রিকাস্থ অপর কোন দেবীকে প‚জা করা হয়না। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের জানা অজানা কথা গুলো প্রচার করা এই জন্য আপনাদের ম‚ল্যবান লাইক, শেয়ার, কমেন্ট আমাদের উৎসাহিত করবে। শ্রী শ্রী বামন দেবের আবির্ভাব তিথী উপলক্ষে সকলের প্রতি রহিল কৃষ্ণপ্রীতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন হিরণ্যকশিপু বধের পর প্রহ্লাদ অসুরক‚লের রাজা হয়ে ছিলেন। এরপর তাঁর পুত্র বিরোচন ও তারপর বিরোচনের পুত্র বলি অসুর সম্রাট হন। বলি রাজা হিসাবে খুবুই ধার্মিক, প্রজাহিতৈষী, দাতা ছিলেন। কিন্তু জাতের স্বভাব ও অসুর গুরু শুক্রাচার্য্যের কুমন্ত্রণার কারণে তিনি বারংবার দেবতাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন।

অপরদিকে দেবতাদিগের মাতা তথা কশ্যপপতœী অদিতি দেবতাদের দুর্দশা দেখে ভগবান হরির আরাধনা করেন। ভগবান হরি দেবমাতা অদিতির পুত্র রূপে আবির্ভ‚ত হন পাঁচ বছর বয়সে মহর্ষি কশ্যপ তাঁর এই পুত্রের মেধা দেখে গায়ত্রী মন্ত্রে দীক্ষা দান করলেন। সেই শিশু বয়ঃ প্রাপ্ত হলেও তাঁর দেহ খর্ব ও পাঁচ বছরের শিশুর মতোই হয়ে থাকলো। তাই তিনি ‘বামন’ নামে পরিচিত হলেন। নর্মদা নদীর তীরে ভৃগুকচ্ছ নামক এক স্থানে মহারাজ বলি দেবতাদের সম্প‚র্ণ রূপে পরাজিত করবার জন্য এক যজ্ঞের আয়োজন করেন। দৈত্যগুরু শুক্র ছিলেন সেই যজ্ঞের পরিচালক। সেখানে বেদজ্ঞ, শাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণ , দরিদ্র সকলেই এসে স্বীয় ইচ্ছা মতো দান নিয়ে বলিকে আশীর্বাদ দিতে লাগলেন। মহারাজ বলি কার্পণ্য না করে সকলের ইস্পিত বস্তু দান করতে লাগলেন। সেই সময় হরির অবতার ভগবান বামনদেব একটি ছাতা মাথায় উপস্থিত হলেন।

মহারাজ বলি সাদরে স্বাগত জানালেন, চরণ ধুয়ে আসন, ভোজোন দিলেন। ভগবান বামনদেবকে বন্দনা প‚র্বক বলি মহারাজ দান নিতে অনুরোধ জানালেন। অপরদিকে শুক্র বুঝতে পারলো যে ভগবান হরি বামন রূপে এসেছেন। তিনি বলিকে দান দিতে নিষেধ করলেন । বামন দেব কেবল ত্রিপাদ ভ‚মি চাইলেন। দান দেওয়ার সঙ্কল্পের সময় অসুর গুরু শুক্র যোগবলে ক্ষুদ্র তনু ধারন করে কুমÐলের ছিদ্র রোধ করলে বামনদেব অঙ্কুশ দ্বারা ছিদ্রমুখ পরিষ্কার করার সময় শুক্রের এক চোখ নষ্ট হয়। বলি রাজা ত্রিপাদ ভ‚মি দান দিলেন। বলির গুরুদেব শুক্র তাকে অভিশাপ দিয়ে প্রস্থান করলেন। এরপর খর্ব ভগবান বামনদেবের শরীরের পরিবর্তন হোলো। এক চরণ দ্বারা তিনি সমস্ত আকাশ ব্যাপ্ত করলেন। প্রজাপতি ব্রহ্মা পবিত্র বারিধারা দ্বারা সেই চরণ অভিষেক করলেন, অপর চরণ দ্বারা পৃথিবী আবৃত্ত করলেন।

আর এক চরণ কোথায় রাখবেন ? বলি মহারাজ ভগবান বামনদেবের সামনে করজোড়ে বসে নিজ মস্তকে এক চরণ রাখতে বললেন। ভগবান বামনদেব তাঁর তৃতীয় চরণ বলি মহারাজের মস্তকে রাখলেন। বলি মহারাজকে বরপ্রদান করলেন-তুমি অসুরদের নিকেতন পাতালপুরীতে আজ থেকে থাকবে। আজ থেকে তুমি অমর হবে। আজ হইতে আমি তোমার রাজ্যের দ্বার রক্ষা করবো। বলি মহারাজ তাঁর শরণাগতি ভক্তি দ্বারা ভগবান শ্রীহরির পরম দুর্লভ শ্রীচরণ লাভ করেছিলেন। বলির দর্প হরণ করে ভগবান বামনদেব শান্তি ও ধর্ম বাণী প্রচার করলেন। এর ফলে অসুরেরা তাদের আসুরিক প্রবৃত্তি ত্যাগ করে ধর্ম পথ গ্রহণ করলো । জয় রাধে রাধে সকলের শ্রীচরণে এই দ্বীণ সুভাষের প্রেমময় ভক্তি রহিল।

সাইবার নিউজ একাত্তর/ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং/ আব্দুর রাজ্জাক(রাজু)

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

খন্দকার ভবন তানোর থানার মোড় প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন তানোর, রাজশাহী থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১৫-২৯৭৫২৪, ০১৭১৬-৮৪৪৪৬৫, ০১৯২০-৪৪০১১২ E-mail: cbnews71@gmail.com Web: www.cybernews71.com Facebook: www.facebook.com/cbnews71 www.twitter.com/CyberNews71 Youtube: //www.youtube.com/cbnews71

© কপিরাইট : খন্দকার মিডিয়া গ্রুপ

 বাল্যবিবাহ রোধ করুন, মাদক মুক্ত সমাজ গড়ুন।

ব্রেকিং নিউজ :