বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
রংপুরে প্রথম ওমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি টুর্নামেন্ট’র খেলা শুরু র‌্যাব-৫ এর অভিযানে বিদেশী পিস্তল’ ওয়ান শুটারগান, গুলি ও ম্যাগজিনসহ ০১ অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার মোহনপুরে পূজা মন্দিরের নিরাপত্তায় কাজ করছে সশস্ত্র আনসার সদস্যরা রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএস আই কর্তৃক নবম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ! রংপুরে এক এস আই পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় চুরি’ এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা খোয়া আলুর খুচরা মূল্য কেজিতে ৫ টাকা বাড়াল সরকার তানোরে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল পবিত্র ঈদ-উল-আযহার জামাত ঈদগার পরিবর্তে মসজিদে অনুষ্ঠিতসহ আরএমপি পুলিশের বিভিন্ন নির্দেশনা জারি রাজশাহী মহানগরীতে নীতিমালা প্রত্যাহারের দাবিতে আইডিইবির উদ্যোগে মানববন্ধন রংপুরে ঘাঘটের ভাঙ্গনে দিশেহারা নদীর পাড়ের মানুষ

উপজেলায় মিলছে না মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা

ইমরান হোসাইন, নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারিভাবে মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু হয়। এজন্য দেশের প্রতিটি উপজেলার ন্যায় রাজশাহীর নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকার থেকে মোবাইলে গ্রামীণ সিমকার্ড সরবরাহ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের মে মাস থেকে সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীর নয়টি উপজেলায় মোবাইলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়। এসব মোবাইল নম্বরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা তাদের সমস্যার কথা জানিয়ে তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন। মোবাইলে কী ধরনের চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের জন্য হাসপাতাল চত্বরে সিটিজেন চার্টার স্থাপন করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ ধরণের বিলবোর্ড কিংবা সিটিজেন চার্টার রাখা হয় নি।

এসব নম্বরে কেবল ফোন দেয়া হলে শুধু তানোর উপজেলাতে মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাচ্ছে। এ রির্পোট লেখার সময় চলতি মাসের ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে ০১৭৩০-৩২৪৭০৮ নম্বরে ফোন দেয়া হয়।

এসময় তানোর উপজেলা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের মেডিকেল অফিসার (ইএমও) ডা. জিনাত আহসান ফোন রিসিভ করে বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে পরামর্শ দেন। চারঘাট উপজেলায় মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা পেতে ০১৭৩০-৩২৪৭০২ ফোন দেয়া হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ইমার্জেন্সি বিভাগের মেডিকেল অফিসার (ইএমও) ডা. মোজাম্মেল হক তিনিও ফোন রিসিভ করে মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা দেন।

কিন্তু আর সব উপজেলায় কাঙ্খিত এ সেবাও যেন সোনার হরিণ। এখন এসব মোবাইল ফোন রিসিভ তো দূরের কথা ফোন দেয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে মোবাইল স্বাস্থ্যসেবার মুখ থুবড়ে পড়েছে।

দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টা মোবাইলে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাবে। এজন্য প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরুরি বিভাগে এমবিবিএস ডাক্তার থাকবেন। এসব ডাক্তাররা মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবেন।

কিন্তু কোনো কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসব মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া এসব মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও রিসিভ হয় না। তবে কোনো সময়ে রিসিভ করা হলেও ডাক্তারের পরিবর্তে আয়া, নার্স ও পিয়নরা এসব ফোন রিসিভ করে থাকেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে মেডিকেল অফিসাররা রাতদিন ২৪ ঘণ্টা ওইসব নম্বরে রোগিদের জরুরি সেবা ও পরামর্শ দেয়ার কথা। নম্বরগুলো জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রদর্শন ও প্রচারের সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জনগণকে নম্বরটি সম্পর্কে অবহিত করতে বলা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এসব নম্বর হাতে পেয়ে প্রচার বা প্রদর্শনে উদ্যোগী না হওয়ায় মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আজো ফলপ্রসূ হয় নি। এ কারণে সেবারটির মুখ থুবড়ে পড়েছে।

এ কারণে মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ। পুঠিয়া উপজেলা মোবাইল স্বাস্থ্যসেবার ০১৭৩০-৩২৪৭০৭ নম্বরে দুবার ফোন দেয়া হয়। কিন্তু রিসিভ করা হয় নি।

এছাড়া বাগমারা উপজেলার ০১৭৩০-৩২৪৭০০ নম্বর ও দুর্গাপুর উপজেলার ০১৭৩০-৩২৪৭০৩ নম্বরে স্থানীয় রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা পেতে ফোন দেন। কিন্তু তা রিসিভ হয় নি।

মোহনপুর উপজেলার ০১৭৩০-৩২৪৭০৫ নম্বর ও পবা উপজেলার ০১৭৩০-৩২৪৭০৬ নম্বর মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা বেশ কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এ দুটি উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি সংশ্লিষ্টরা।

তবে, বাঘা উপজেলার মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ০১৭৩০৩২৪৭০১ নম্বর ফোনে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু ওই নম্বরে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ৪ তারিখ বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে ফোন দেয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়।

এব্যাপারে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও জানান, মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শুধু মোবাইল সিমকার্ড সরবরাহ করা হয়েছে। এ সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নেই কোনো জনবল। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবার নম্বরটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে প্রচার প্রচারণায় কোনো অর্থ ছাড় দেয়া হয় নি। এমন নানাবিধ সমস্যার আবর্তে নম্বরটি কোনো সময়ে খোলা থাকে আবার বন্ধও থাকে বলে জানান তিনি।

তানোর উপজেলার নারী-ভাইস চেয়ারম্যান সোনিয়া সরদারসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরুরি সেবার মোবাইল নম্বরটি সম্পর্কে তারা অবগত নন। তারা বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি হয়েও এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে তাদেরকে কেউ অবহিত করেন নি। তারা এমন স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে না জানলে সাধারণ মানুষ কীভাবে জানবে এবং কীভাবে সেবা নেবে এমন উল্টো প্রশ্ন করেন তারা।

তবে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো বিশেষ করে গ্রাম এলাকায় হয়ে থাকে। মোবাইলে ম্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জানতে চান না কেউ। এ কারণে মোবাইলে স্বাস্থ্যসেবা থেকে মানুষ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। হয়তো অনেকে নম্বরটি নিলেও ভুলে গেছে অথবা জানেন না। আগে বিভিন্ন মাধ্যমে নম্বরটি অনেককে জানানো হয়েছে। এনিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে তারা এমন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।

এনিয়ে রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসার জানান, মোবাইলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডাক্তাররা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এক্ষেত্রে কেউ অবহেলা করলেও তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে নম্বরটি সম্পর্কে খুব শিগগির সাধারণ জনগণকে জানানোর উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

খন্দকার ভবন তানোর থানার মোড় প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন তানোর, রাজশাহী থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১৫-২৯৭৫২৪, ০১৭১৬-৮৪৪৪৬৫, ০১৯২০-৪৪০১১২ E-mail: cbnews71@gmail.com Web: www.cybernews71.com Facebook: www.facebook.com/cbnews71 www.twitter.com/CyberNews71 Youtube: //www.youtube.com/cbnews71

© কপিরাইট : খন্দকার মিডিয়া গ্রুপ

 বাল্যবিবাহ রোধ করুন, মাদক মুক্ত সমাজ গড়ুন।

ব্রেকিং নিউজ :