বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
কুমিল্লায় ৩৮ দিন পর শিশু’র লাশ উদ্ধার লুটপাট-দুর্নীতি রুখতে মুক্তিযুদ্ধের পুনর্জাগরণের ডাক কুমিল্লার মুরাদনগরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীর তানোরে আলুর জমিতে আছড়ে পড়ল প্রশিক্ষণ বিমান’ পাইলট আহত অপর প্রশিক্ষণার্থী অক্ষত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার-৪২ বিজিবির চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে গোদাগাড়ীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা-হেরোইন উদ্ধার যুবক আটক রংপুরে প্রথম ওমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি টুর্নামেন্ট’র খেলা শুরু র‌্যাব-৫ এর অভিযানে বিদেশী পিস্তল’ ওয়ান শুটারগান, গুলি ও ম্যাগজিনসহ ০১ অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার মোহনপুরে পূজা মন্দিরের নিরাপত্তায় কাজ করছে সশস্ত্র আনসার সদস্যরা রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএস আই কর্তৃক নবম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ!

কাপাসিয়ায় গলা টিপে আপন ফুফুকে হত্যা

পুনম শাহরীয়ার ঋতু, (গাজীপুর) কাপাসিয়া থেকে :

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বৃহস্পতিবার যে নারীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ এর আগের রাতে আপন ভাইপো শ্বাসরোধে হত্যার পর তার লাশ গুমের চেষ্টা করেছিল।

বুধবার ২৪শে এপ্রিল ২০১৯ ইং দুপুরে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের তিলশুনিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় পাওয়া একটি বস্তা খুলে পুলিশ দেখেছে, ‘পরনের শাড়ি দিয়ে ওই নারীর দুই পা বাঁধা রয়েছে। শরীরে যৌন নিপীড়নের আলামত ও আঘাতের চিহ্ন নেই।’ মৃত সাবিনা আক্তার (৪২) গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদীর বাসিন্দা ইউসুফ আলীর স্ত্রী।

তাদের দুই ছেলে রয়েছে, তার বাবার বাড়ি পাশ্ববর্তী কাপাসিয়া উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের তিলশুনিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায়। শতবর্ষী বাবা মমতাজ উদ্দিন ফরাজী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তার পাঁচ বিঘার মতো জমি রয়েছে। মমতাজ উদ্দিনের চার ছেলে ও চার মেয়ে। তারা হলেন মৃত আব্দুল হামিদ ফরাজী, রমিজা বেগম, আফাজ উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, রাশেদা বেগম, ফরিদা বেগম, আশরাফুল ইসলাম খোকা ও সাবিনা আক্তার। সবার বড় আব্দুল হামিদ ফরাজী প্রায় ৪ বছর আগে মারা গেছেন। জীবিত আফাজ উদ্দিন (৬৫) ও গিয়াস উদ্দিন (৬২) বুদ্ধি করে বোনদের ঠকিয়ে বাবার জমি রেজিস্ট্রি করে নেন। এর মধ্যে বসত ভিটার প্রায় ৬ কাঠা জমি পেয়েছেন তাদের সৎ মা, আর খোকা থাকেন বিদেশে। রমিজার স্বামীর বাড়ি বাবার বাড়ির পাশের টেকে, রাশেদার ভাডিরা বাঘমারবাড়ি ও ফরিদার স্বামীর বাড়ি বক্তারপুরে। প্রায় দেড় বছর আগে জমি আত্মসাতের বিষয়টি প্রকাশ যায়। এ নিয়ে ভাই ও ভাইপোদের সঙ্গে বোনদের দ্বন্দ্ব হয়। এরপর বাপের বাড়িতে যাতায়াতও কমে যায় চার বোনের। ভাইরাও সব আলাদা হয়ে, যে যার মত বাড়ি করেছে। গত রোববার (২০ জানুয়ারি) অসুস্থ বাবাকে দেখতে আসেন সাবিনা। তিনদিন ছিলেন বাবার সঙ্গে। ভাইরা আলাদা থাকায়; বন্টন অনুয়ায়ী সাবিনা দ্বিতীয় ভাই আফাজ উদ্দিনের ভাগে। তাই বুধবার সকালে এই ভাইয়ের বাড়িতে চলে যান সাবিনা। ওই দিন মাগরিবের একটু আগে আফাজের বাড়ি থেকে বৃদ্ধ বাবার জন্য বাটিতে করে মুরগীর মাংস নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এক থেকে দেড় মিনিটের পথ। “মৃত ভাই আব্দুল হামিদ ফরাজির ছেলে মামুনুর রশিদের (৪০) বাড়ির ওঠান দিয়ে যেতে থাকেন সাবিনা। তখন মামুন ডেকে থামতে বলেন ফুফু সাবিনাকে। তখন সাবিনা উত্তরে বলে তোরা হারামি। সব জমি লিখে নিলি। তখন মামুন বলে, যা করেছে তোমার ভাইরা করেছে; তাদের হারামি বলো। এরপর তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। হঠাৎ ডান হাত দিয়ে ফুফুর গলায় চেপে ধরেন মামুন। অপারেশনের রোগী সাবিনা তখন অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন মরে গেছে ভেবে মামুন দ্রুত ফুফুকে হেচড়ে তার মাটির ঘরে নিয়ে যায়। মামুনের ঘরে তখন কেউ ছিল না। দুদিন আগে তার স্ত্রী ৫ এবং ৭ বছর বয়সী দুই মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়ি গেছেন। অন্যদিন এ সময়ে কাজে থাকলেও মামুন ওই দিন বাড়িতেই ছিলেন। ঘরে নিয়ে দেখেন ফুফু এখনও জীবিত, শ্বাস নিচ্ছেন। তখন মামুন মুখে পলিথিন চেপে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে দীর্ঘসময় দরজা বন্ধ করে লাশের পাশে বসে থাকেন। এক সময় মামুন চিন্তা করেন লাশ গুম করতে হবে। পরে গরুর খাবারের প্লাস্টিকের সাদা বস্তা নিয়ে আসেন মামুন। এতে ফুফুকে শাড়ি দিয়ে দুই পা বেঁধে ঢুকান। রাত প্রায় ১০টার দিকে মামুন বস্তা কাঁধে নিয়ে বের হন। কিছুদূর গিয়েই লাশের ওজন বেশি হওয়ায় মামুন ক্লান্ত হয়ে যান। যখন কেউ দেখে ফেলে কিনা এই ভেবে তিনি ঘাবড়ে যান। পরে মামুনের প্রতিবেশী চাচা মতিউর রহমানের পূর্বদিক ফেরানো ঘরের পিছনে লাশ ফেলে চলে যান।” সকালে চুলার ছাই ফেলতে গিয়ে মতিউরের স্ত্রী বস্তা দেখতে পান। কাছে গিয়ে দেখেন মানুষের পায়ের আঙুল দেখা যাচ্ছে। যখন বাড়ির সবাইকে ডাকেন। সাবিনার খোঁজ না থাকায় বস্তা দেখেই সকলের সন্দেহ হয়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে বস্তা খুলে সাবিনার লাশ বের করে। দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। মামুনের বাবা ঢাকার বনানী ক্যান্টনমেন্টে সিভিল ডিফেন্সে চাকরি করতেন। তিনি মারা যাওয়ার পর তার তিন ছেলে আলাদা হয়ে যান। মামুন বাপের ভিটা ছেড়ে আলাদা মাটির ঘর করেছেন। তিলশুনিয়া বাজারে তার ঔষুধের দোকার রয়েছে। অন্য দুই ভাই ঢাকায় থাকেন। একজন বিমানবন্দরে চাকরি করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে প্রথমে তিন নারীসহ সাতজনকে জিঞ্জাসাবাদের জন্য আটক করেছিল পুলিশ। তারা হলেন নিহতের ভাই আফাজ উদ্দিন (৬৫) ও গিয়াস উদ্দিন (৬২), আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী নাজমা বেগম (৫০), আফাজ উদ্দিনের ছেলে ইব্রাহীম (২৫), মৃত ভাই আব্দুল হামিদের ছেলে হত্যাকারী মামুনুর রশিদ (৪০), ভাই আশরাফুল ইসলাম খোকার স্ত্রী জেসমিন বেগম (২৫) ও কালীগঞ্জ উপজেলার দুবুরিয়া গ্রামের রহিম উদ্দিনের মেয়ে হাছনা বানু (৩০)। এদের মধ্যে হাছনা বানু বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এবং জেসমিন গর্ভবতী হওয়ায় গতকাল সন্ধ্যায়-ই তাদের ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত সাবিনার ছেলে শেখ ফরিদ বাদী হয়ে গতকাল রাতেই কাপাসিয়া থানায় মামলা করেছেন। কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মনিরুজ্জামান খান যোগফলকে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আজ শুক্রবার গাজীপুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন মামুন। খুনের সঙ্গে এখন পর্যন্ত শুধু মামুনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তিনি অন্য কারও নামও বলেনি আদালতে। পাঁচজন আমাদের হেফাজতে রয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাইবার ‍নিউজ একাত্তর/ ২৫শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং/হাফিজুল

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

খন্দকার ভবন তানোর থানার মোড় প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন তানোর, রাজশাহী থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১৫-২৯৭৫২৪, ০১৭১৬-৮৪৪৪৬৫, ০১৯২০-৪৪০১১২ E-mail: cbnews71@gmail.com Web: www.cybernews71.com Facebook: www.facebook.com/cbnews71 www.twitter.com/CyberNews71 Youtube: //www.youtube.com/cbnews71

© কপিরাইট : খন্দকার মিডিয়া গ্রুপ

 বাল্যবিবাহ রোধ করুন, মাদক মুক্ত সমাজ গড়ুন।

ব্রেকিং নিউজ :