বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
কুমিল্লায় ৩৮ দিন পর শিশু’র লাশ উদ্ধার লুটপাট-দুর্নীতি রুখতে মুক্তিযুদ্ধের পুনর্জাগরণের ডাক কুমিল্লার মুরাদনগরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীর তানোরে আলুর জমিতে আছড়ে পড়ল প্রশিক্ষণ বিমান’ পাইলট আহত অপর প্রশিক্ষণার্থী অক্ষত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার-৪২ বিজিবির চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে গোদাগাড়ীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা-হেরোইন উদ্ধার যুবক আটক রংপুরে প্রথম ওমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি টুর্নামেন্ট’র খেলা শুরু র‌্যাব-৫ এর অভিযানে বিদেশী পিস্তল’ ওয়ান শুটারগান, গুলি ও ম্যাগজিনসহ ০১ অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার মোহনপুরে পূজা মন্দিরের নিরাপত্তায় কাজ করছে সশস্ত্র আনসার সদস্যরা রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএস আই কর্তৃক নবম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ!

ফিরে এলেন সু-কৌশলে অপহরণ কৃত ৮ বছরের শিশু রুমানা আক্তার!

আজগোর আলী সাগর, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহী মোহনপুর থানার কেশরহাট পৌর এলাকার বাকশইল গ্রামে। অনুসন্ধানে জানা যায় শিশুটিকে তার মায়ের কাছে থেকে এক প্রকার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই কথিত সতমা রেনুকা বেগম তার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাবার কথা বলে সমবার ২৫শে ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ইং রাজশাহীতে নিয়ে যায় এবং পরের দিন ২৬শে ফেব্রুয়ারী সকালে মেয়েকে নিয়ে কেশরহাট বকশইলে ফিরে আসবেন এ প্রতিশ্রুতীতে। পরবর্তীতে ২৬ তারিখ সকাল থেকে মেয়ে ফিরত চাইলে রেনুকা বিভিন্ন রকম টাল বাহানা করতে থাকে। কখনো বলে কালকে যাব আবার কখনোবা বলে ঢাকাই চলে যাচ্ছি আবার মাঝে মাঝে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন রেনুকা। তার একেক বার একেক রকম কথা বলাই পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ করেন যে হয়তোবা তাদের ৮ বছরের কন্য শিশুটিকে টাকার জন্য আটকিয়ে রাখবে অথবা পাচার করে দেবে রেনুকা। তাই তারা কোন প্রকার মামলা বা জিডি না করার সর্তে রেনুকাকে বিভিন্ন কাইদায় অনুরোধের শুরে কথা বলে শেষ পর্যন্ত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ডাবের মোড় এলাকা থেকে বাচ্চাটি কে নিজেদের জিম্মায় নিতে সক্ষম হন।

এলাকা বাসি ও শিশু রুমানা আক্তারের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশু রুমানা আক্তার বাকশইল গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলাম (রফিক) এর কন্যা সে বাকশইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। রুমানা সহ রফিকের ৪টি কন্যা সন্তান রয়েছে। একের পর এক ৪টি কন্যা সন্তান হওয়ার কারনে রফিকের পরিবারের পক্ষ থেকে পুত্র সন্তানের আশায় রফিককে দ্বিতীয় বিয়ের কথা বলা হলেও সেটাকে আমলে না নিয়ে সংসার করে যাচ্ছিল রফিক। রফিক একজন সাদামাটা সভাবের মধ্যবির্ত্ব স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান পরিবারের অন্যান্য সদস্য ছাড়াও প্রতিবেশীদের সাথে আছে তার স্বদ-ভাব।

আর এরই সুযোগে রফিকের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন মোহনপুর থানার ব্যাড়াবাড়ি গ্রামের হবিরের মেয়ে রেনুকা বেগম (৪০)। সে পূর্বে ২ স্বামী পরিত্যক্তা বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়, রেনুকার পূর্বের স্বামীর রয়েছে দুই সন্তান প্রথম টা ২১ বছরের বিবাহিত মেয়ে সেই মেয়েরও রয়েছে এক সন্তান। আর দ্বিতীয় টা হচ্ছে ১৩ বছরের সপ্তম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছেলে। বর্তমানে রেনুকার দাবি তার কন্যা সন্তান ও পুত্রের দায়িত্ব নিতে হবে রফিককে নচেৎ সে রফিকের সংসার করবে না। সে রফিকের কাছে কথিত দেন মোহরের ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করে বলেন আমাকে দেন মোহরের টাকাটা দিয়ে দাও আমি তোমার কাছে থেকে চলে যাব। আমার নিজের ওরশজাত সন্তান রয়েছে আমি তাদেরকে ছেড়ে কোন ভাবেই তোমার কাছে একাকি থাকতে পারবো না বলে রফিককে সাফ জানিয়ে দেন রনুফা বেগম । পরবর্তীতে সর্বশেষ বুধবার ২৭শে ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ইং রাত্রি ৯টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেন মোহর বাবদ ৭৫ হাজার টাকার দাবি জানান রেনুকা। পাশাপাশি এটাও শিকার করেন যে রফিকের প্রথম স্ত্রীর লিখিত অনুমতি ছাড়া রফিককে বিয়ে করে চরম একটা ভূল করে ফেলেছি।

অপর দিকে রফিক জানান, রেনুকার সাথে তার বিয়ে হয়েছে এটা সঠিক তবে দেনমোহর ৩০ হাজার টাকা এ বিয়েতে শুধু কলমা হয়েছে রেজিস্ট্রি হয়নি রেনুকা যে কাবিন নামার কপি দেখাচ্ছে তা ভুয়া ও জাল। উল্লেখিত কাজীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তার কাছে এ ধরনের কোন বিবাহ্ রেজিস্টেরী হয় নাই। এ বিষয়ে মৃত: ওসমান মন্ডলের স্ত্রী রফিকের মাতা আমেনা বেওয়া (৯০) বলেন আমার ছেলে রফিককে সহজ সরল পেয়ে ছল চাতুরী করে টাকার জন্য বিয়ে করেছে রেনুকা। আমরা স্বপ্নেও জানিনা এতো বড় বড় দুই ছেলে মেয়ের মাকে বিয়ে করেছে রফিক, সে কখনোই দুটো বৌ চালাতে পারবে না রফিকের সেই সম্বল নেই এখন। সে যেখানে পরিবারে স্ত্রী শরিফা ও চার মেয়ের ভরন পোষণ দিতেই পারেনা আমার অন্যান্য ছেলেরা সহ শরিফার বাবার পরিবারই দিয়ে আসছেন তাদের খরচাপাতি সেখানে দ্বিতীয় বিয়ের প্রশ্নই আসেনা একই মন্তব্য করেন রফিকের বড় ভাবি আলেয়া ও শরিফা বেগম সহ গ্রামের অসংখ্য মানুষ।

এ প্রতিবেদক দের সাথে ক্রন্দন রত অবস্থায় রফিকের প্রথম স্ত্রী শরিফা বেগম বলেন, আমার অনুমতি ছাড়া কি ভাবে রফিককে বিয়ে করতে পারে এই মেয়ে রেনুকা আমিকি অসুস্থ না পংগু। আর আমার মেয়েকে আমি রাজশাহীতে যেতেই দেবনা সেখানে প্রায় জোর পূর্বক রুমানাকে নিয়ে গিয়েছে রেনুকা। আমার বিশ্বাস সে টাকার জন্যেই হয়তোবা আমার মেয়েকে আটকিয়ে ছিল, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন মানুষ বিষয়টি নিয়ে রেনুকাকে ফোন দেওয়াই সে ভয় পেয়ে আমার মেয়েকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে নচেৎ কিযে হোত আল্লাহ্পাক ঐ ভাল জানেন । আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেয়েছি, তবে এর যদি সুষ্ঠু বিচার না হয় তাহলে আমি প্রশাসনের সহ যোগিতায় আইনি ব্যাবস্তা নিতে বাধ্য হবো বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

অপর দিকে বর্তমান পবা-মোহনপুরের মাননীয় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দীন এমপির আপন খালু এহেসান আলী বলেন, আমি সম্পর্কে শরিফার আপন চাচা হই ছোটবেলা থেকে মেয়েটিকে আমরাই কোলে পিঠে মানুষ করেছি সে আমাদের অতি আদরের সন্তান। রফিকের সাথে প্রাই ২৭বছর হোল বিয়ে দিয়েছি, বিয়ে দেবার পরে তারা অনেক দিন যাবৎ ভালই ছিল কিন্তু ৭/৮ বছর থেকে রফিক আমাদের শরিফা ও তার চার মেয়ের প্রতি তেমন কোন গুরুত্বই দেইনা। আমরা শুধু দেখেই যাচ্ছি আর শুনেই যাচ্ছি জামাই বলে কিছুই বলছিনা, এর যদি সুষ্ঠু সমাধান না করে রফিক তবে সেটা যে কোন দিকে মোড় নেবে তা আমরাও জানিনা। আর এই রকম যদি একের পর এক চলতেই থাকে আমাদের মেয়ে ও নাতনীরা চোখের জল ফেলতেই থাকে তাহলে আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে যে কোন সময় হার্ড লাইনে যেতে বাধ্যহবো।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

খন্দকার ভবন তানোর থানার মোড় প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন তানোর, রাজশাহী থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১৫-২৯৭৫২৪, ০১৭১৬-৮৪৪৪৬৫, ০১৯২০-৪৪০১১২ E-mail: cbnews71@gmail.com Web: www.cybernews71.com Facebook: www.facebook.com/cbnews71 www.twitter.com/CyberNews71 Youtube: //www.youtube.com/cbnews71

© কপিরাইট : খন্দকার মিডিয়া গ্রুপ

 বাল্যবিবাহ রোধ করুন, মাদক মুক্ত সমাজ গড়ুন।

ব্রেকিং নিউজ :