মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
কুমিল্লায় ৩৮ দিন পর শিশু’র লাশ উদ্ধার লুটপাট-দুর্নীতি রুখতে মুক্তিযুদ্ধের পুনর্জাগরণের ডাক কুমিল্লার মুরাদনগরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীর তানোরে আলুর জমিতে আছড়ে পড়ল প্রশিক্ষণ বিমান’ পাইলট আহত অপর প্রশিক্ষণার্থী অক্ষত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার-৪২ বিজিবির চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে গোদাগাড়ীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা-হেরোইন উদ্ধার যুবক আটক রংপুরে প্রথম ওমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি টুর্নামেন্ট’র খেলা শুরু র‌্যাব-৫ এর অভিযানে বিদেশী পিস্তল’ ওয়ান শুটারগান, গুলি ও ম্যাগজিনসহ ০১ অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার মোহনপুরে পূজা মন্দিরের নিরাপত্তায় কাজ করছে সশস্ত্র আনসার সদস্যরা রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএস আই কর্তৃক নবম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ!

বৃক্ষপ্রেমী জনপ্রতিনিধি এমপি ফারুক চৌধূরী

সোহানুল হক পারভেজ:

রাজশাহীর-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) নির্বাচনী এলাকা প্রচন্ড খরাপ্রবণ বরেন্দ্র আঞ্চলের অর্ন্তভুক্ত হওয়ায় এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় স্থানীয় সাংসদ ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কৃষিবদি আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরী বৃক্ষরোপণের মহা-পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য এই অঞ্চলের দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার প্রায় দুই কোটি খেজুর, এক লাখ তালবীজ ও পাঁচ লাখ সাজিনা গাছ রোপণ কাজ শুরু করেন।

বিগত ২০১২ সালে এমপি ফারুক চৌধূরী ব্যক্তি উদোগে তার নির্বাচনী এলাকায় তিনি প্রায় দুই কোটি খেজুর, ৫০ লাখ তাল বীজ, সাজিনা গাছ ও ওষুধি গাছ রোপণ করেন। এদিকে কৃষিবিদ, বৃক্ষ ও প্রকৃতি প্রেমী এই রাজনৈতিক নেতা তথা জনপ্রতিনিধি কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ইতিমধ্যে জাতীয় পর্যায়ে একধিকবার রাস্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন দুর্লভ বৃক্ষের সংগ্রাহক এই জনপ্রতিনিধি। শখের বসে ধাতবমুদ্রা, পুরুনো আমলের বনেদি গাড়ী, ডাক টিকিট, বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত আসবাবপত্র ইত্যাদি সংগ্রহে রাখেন অনেকে। কিন্তু দুর্লভ বৃক্ষ সংগ্রহে রাখার কথা সচারচার শোনা যায় না। তবে এমপি ফারুক চৌধূরী দুর্লভ বৃক্ষের বড় সংগ্রাহক হয়ে উঠেছেন। তার বাগান বাড়ীতে দুর্লভ বৃক্ষের সংগ্রহ যেকোনো বৃক্ষ প্রেমী মানুষকে সহজেই আকৃষ্ট করবে নিশ্চিত। তিনি যখনই সরকারী বা ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ গেছেন ফিরে আসার সময় সেই দেশের নানা প্রজাতির গাছের চারা নিয়ে এসেছেন। ফলে তার সংগ্রহে দেশী-বিদেশী অনেক দুর্লভ বৃক্ষ রয়েছে।

জানা গেছে, রাজশাহীর তানোর ও গোদাগাড়ী অঞ্চলের প্রচন্ড খরাপ্রবণ বিভিন্ন এলাকায় ধীরে ধীরে নানা প্রজাতির বৃক্ষ উজাড় হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তানোর ও গোদাগাড়ী অঞ্চলকে মরুভূমির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বিগত ১৯৯০ সাল থেকে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী হাতে নিয়ে সরকারি রাস্তা, পুকুর, খাড়ির দু’ধার ও আবাদি জমির আইলে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করলে বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল পরিমাণ গাছ বেড়ে ওঠে। ব্যাপক বন উন্নয়নের কারণে প্রচন্ড খরার হাত থেকে রক্ষাসহ বৃহত্তর বরেন্দ্র অঞ্চলে একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হলেও বন উন্নয়নে দূর্নীতি, গাছ রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা, নষ্ট হওয়া ও ব্যাপকহারে গাছ চুরি হয়ে যাওয়ায় দিন দিন উজাড় হচ্ছে বন। ফলে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ফসলের ক্ষতিসহ পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়াসহ এ অঞ্চল আবারও সেই ১৯৯০ দশকের আগের বরেন্দ্র ভূমিতে পরিণত হতে চলেছে।

অতীতে বরেন্দ্র ভূমিতে শুধুমাত্র তাল ও খেজুর গাছ থাকায় তেমন বৃষ্টিপাত হতো না, ফলে বৃষ্টি নির্ভর রোপা-আমণ একটি মাত্র ফসল কোনরকমে উৎপাদন করা সম্ভব হতো। সরকার বরেন্দ্র ভূমিতে ব্যাপক ফসল উৎপাদন ও মরুভূমির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ১৯৮৫ সালের দিকে গভীর নলকুপ বসিয়ে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে জমিতে সেচ দেয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ফসল উৎপাদন শুরু হয়। বেশি বৃষ্টিপাতের আশায় ১৯৯০ সালে বিএমডিএ’র উদ্দ্যোগে রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আম, বরই, মেহগনি, কড়ই, পাইকড়, তাল, শিশু, খেজুরগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। কিন্তু গাছগুলো রোপণের পর থেকে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট ও কিছু গাছ বড় হলে গাছগুলো ২০০১ সাল থেকে চুরি হতে থাকে।

সুত্র জানায়, রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী হতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল হতে নিয়ামতপুর, রাজশাহী হতে তানোর, তানোর হতে নওগাঁ জেলার মান্দা, রাজশাহী হতে মোহনপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হতে আমনুরা, গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ী হতে কাঁকনহাট, রাজশাহী হতে কাঁকনহাট সড়কের দু’ধারে বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল পরিমাণ গাছ চুরি ও নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে এগুলো এখন ফাঁকা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। এদিকে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বৃহত্তর বরেন্দ্র অঞ্চলকে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকার ফলজ, বনজ ও ওষুধী বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে। আর এরই অংশ হিসেবে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কৃষিবিদ বৃক্ষপ্রেমী জনপ্রতিনিধি আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরীর ব্যক্তি উদ্দ্যোগে গোদাগাড়ী ও তানোরে প্রায় দুই কোটি খেজুর, ৫০ লাখ তাল বীজ, সাজিনা গাছ ও ওষুধি বৃক্ষ রোপণের উদ্দ্যোগ নিয়ে বৃক্ষরোপণ শুরু করেন। তার এই উদ্দ্যোগকে সফল করতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ, কৃষি বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনসহ সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। এব্যাপারে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, মাননীয় এমপি মহোদয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় তাল ও খেজুর বীজ, সাজিনা ও ওষুধি গাছ রোপণের যে উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে তা এই অঞ্চলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে।

সাইবার নিউজ একাত্তর/ ১৮ জুলাই, ২০১৯ ইং/হাফিজুল

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

খন্দকার ভবন তানোর থানার মোড় প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন তানোর, রাজশাহী থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১৫-২৯৭৫২৪, ০১৭১৬-৮৪৪৪৬৫, ০১৯২০-৪৪০১১২ E-mail: cbnews71@gmail.com Web: www.cybernews71.com Facebook: www.facebook.com/cbnews71 www.twitter.com/CyberNews71 Youtube: //www.youtube.com/cbnews71

© কপিরাইট : খন্দকার মিডিয়া গ্রুপ

 বাল্যবিবাহ রোধ করুন, মাদক মুক্ত সমাজ গড়ুন।

ব্রেকিং নিউজ :