রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৪:০২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
কুমিল্লায় ৩৮ দিন পর শিশু’র লাশ উদ্ধার লুটপাট-দুর্নীতি রুখতে মুক্তিযুদ্ধের পুনর্জাগরণের ডাক কুমিল্লার মুরাদনগরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীর তানোরে আলুর জমিতে আছড়ে পড়ল প্রশিক্ষণ বিমান’ পাইলট আহত অপর প্রশিক্ষণার্থী অক্ষত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার-৪২ বিজিবির চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে গোদাগাড়ীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা-হেরোইন উদ্ধার যুবক আটক রংপুরে প্রথম ওমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি টুর্নামেন্ট’র খেলা শুরু র‌্যাব-৫ এর অভিযানে বিদেশী পিস্তল’ ওয়ান শুটারগান, গুলি ও ম্যাগজিনসহ ০১ অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার মোহনপুরে পূজা মন্দিরের নিরাপত্তায় কাজ করছে সশস্ত্র আনসার সদস্যরা রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএস আই কর্তৃক নবম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ!

স্কুলছাত্রী বর্ষার আত্মহননে রাজশাহীর মোহনপুরের ওসি, ক্লোজড

শাহিনুর রহমান, (রাজশাহী) মোহনপুর থেকে :

স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আকতার বর্ষা অপহরণ ও আত্মহননে দায়িত্বে অবহেলা এবং বর্ষার বাবাকে উল্টো হয়রানির ঘটনায় রাজশাহীর মোহনপুর থানার ওসি আবুল হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার  ২০শে মে ২০১৯ ইং বিকেলে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ মোহনপুর থানার ওসিকে প্রত্যাহারের আদেশ জারি করেন।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতে খায়ের আলম বলেন, প্রশাসনিক কারণে মোহনপুর থানার ওসি আবুল হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য: অপহরণের পর আসামীর স্বজনদের হুমকি আর অপমানে মোহনপুর উপজেলার স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আকতার বর্ষা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আত্মহত্যার আগেই পুলিশের কাছে অপহরণের মামলা করতে যান তার বাবা। তবে মামলা না নিয়ে তাকে পিটিয়ে দাঁত ভেঙে দিতে চান মোহনপুর থানার ওসি আবুল হোসেন। শুধু তাই নয়, পরপর চারদিন থানায় গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রেখে তাকে হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে এই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে।

সরজমিন অনুসন্ধানে, শনিবার ১৮মে ২০১৯ ইং বিকালে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা সদরে বর্ষার বাড়িতে গেলে এসব তথ্য জানান তার পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্যরা বলেন, সঠিক সময়ে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিলে বর্ষাকে হয়তো আত্মহননের পথ থেকে বাঁচানো যেত।

বর্ষার বোন জানান, বাকশিমুল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষা স্কাউট দলের সেকেন্ড ক্যাপ্টেন ছিল। স্কুলে যাতায়াতের সময় প্রায় ৬ মাস ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল পাশের বাড়ির আনিস উদ্দিনের ছেলে বখাটে মুকুল। তার প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে বিষয়টি বর্ষা পরিবারকে জানিয়েছিল। তার পরিবারের লোকেরা উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যানকেও এ ঘটনা জানিয়ে ছিলেন। তবে তারা ভাবতেই পারেননি, বর্ষাকে অপহরণ করার মতো ঘটনা ঘটাবে বখাটে মুকুল।

তিনি আরও জানান, গত ২৩ এপ্রিল প্রাইভেট পড়তে যেতে চায়নি বর্ষা। তার সহপাঠী প্রতিবেশী সোনিয়া অনেকটা জোর করেই সেদিন তাকে নিয়ে যায়। এরপর সোনিয়া বাড়ি ফিরলেও বর্ষা আসেনি, সেই দিন বিকেলে তারা খবর পান, বাড়ি থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে মোহনপুর থানাধীন খানপুর বাগবাজার এলাকায় অচেতন অবস্থায় বর্ষা পড়ে আছে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আনা হয় উপজেলা পরিষদের গেটে। ওই দিন সন্ধ্যায় তার বাবা থানায় অপহরণের মামলা করতে যান।

মোহনপুর থানায় মামলা করতে গেলে, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হোসেন নানা অজুহাতে রাত ১২টা পর্যন্ত বর্ষার বাবাকে আটকে রাখেন। পরে বর্ষার অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশের গাড়িতে করেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেই রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত বখাটে মুকুলকে গ্রেপ্তার করলেও সকালে ছেড়ে দেয়, এরপর টানা চার দিন মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি।

বর্ষার বাবা আব্দুল মান্নান চাঁদ বলেন, আমরা  রাজশাহীতে এসপি সাহেবের কাছে যাব বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিদিন থানায় ডেকে আটকে রাখা হচ্ছিল। পরে একদিন ওসিকে বল্লাম, যদি মামলা না নেন, তো বলে দেন, হয়রানি কেন করছেন? একথা বলতেই ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, পিটিয়ে দাঁত-মুখ ভেঙে দেব।

এরপর মোহনপুরের সাবেক ইউএনও বর্তমানে এডিসি আলমগীর কবীরকে বিষয়টি ফোনে জানায়। তিনি বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারকে জানান। পুলিশ সুপার বর্ষাকে নিয়ে যেতে বললে তিনাকে সব কিছু খুলে বলি। এরপর ওসি থানায় মামলা নেন, তবে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ বাদ দেন। ওসি বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট ছাড়া ধর্ষণের মামলা নেওয়া যাবে না।

বর্ষার মা ফরিদা বেগম বলেন, বর্ষা বাড়ি ফিরে তাদের জানায়, সহপাঠী সোনিয়া তাকে প্রাইভেট পড়ার জন্য ডেকে নিয়ে যায়। পরে সে রুমাল দিয়ে তার নাক ধরে, এরপর বর্ষা অচেতন হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফিরে সে নিজেকে বাড়ি থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে বাগবাজার এলাকায় দেখতে পায়। নিজের শরিরে থাকা জামার বদলে অন্য জামা দেখতে পায়। তার পাশে তখন অভিযুক্ত মুকুল ও দেলোয়ার নামের একজন ভ্যানচালক ছিল। তবে পুলিশ অপহরণ মামলায় দেলোয়ারকে আসামি করেনি, জামা বদল থাকায় ধারণা করা হচ্ছিল, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

ফরিদা বেগম আরও বলেন, ২৭ এপ্রিল ২০১৯ ইং মামলার পর মুকুলকে গ্রেপ্তার করা হলে শুরু হয় চরম গালাগাল ও হুমকি। আসামিরা বাড়ি এসে মেয়েদের এসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। বৃহস্পতিবার গোসল করতে গেলে বর্ষাকে আবারো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দেওয়া হয়, এতে অভিমানে মেয়েটি আত্মহত্যা করে।

মোহনপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সানজিদা রহমান রিক্তা বলেন, একটি মেয়ে মারা গেলেও আরও দুই মেয়ে নিয়ে চরম আতঙ্কে আছেন বর্ষার পরিবার। তাদের নিরাপত্তা ও অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তিনি।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দীন এমপি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ও দায়িত্বে অবহেলাকারীদের শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, সে যতই শক্তিশালী বা ক্ষমতাধর হোক না কেন।

বর্ষার আত্মহত্যার ঘটনায় ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন তার বাবা আব্দুল মান্নান চাঁদ। পুলিশ এ মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আসামী মুকুল কারাগারে থাকলেও অন্য আসামিরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে তারা এখন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অপরদিকে আসামী সোনিয়া আদালত থেকে জামিন নিয়ে পরিবারসহ কৌশলে পালিয়েছে। শনিবার বিকালের দিকে তাদের বাড়িতে গেলে গেটে তালা ঝুলতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে সদ্য ক্লোজডকৃত মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হোসেন দাবি করেন, তিনি কোনো রকম হয়রানি করেননি। কাউকে মারধর করতেও চাননি তার প্রচেষ্টাতেই মুকুলসহ চার আসামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে মোহনপুর থানা পুলিশ। তিনি এইও বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলে আমাকে প্রশাসন ও সমাজের কাছে হেউ প্রতিপূর্ণ করা হচ্ছে, আমি নির্দশ।

সাইবার ‍নিউজ একাত্তর/ ২১শে মে, ২০১৯ ইং/হাফিজুল

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

খন্দকার ভবন তানোর থানার মোড় প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন তানোর, রাজশাহী থেকে প্রকাশিত। মোবাইল: ০১৭১৫-২৯৭৫২৪, ০১৭১৬-৮৪৪৪৬৫, ০১৯২০-৪৪০১১২ E-mail: cbnews71@gmail.com Web: www.cybernews71.com Facebook: www.facebook.com/cbnews71 www.twitter.com/CyberNews71 Youtube: //www.youtube.com/cbnews71

© কপিরাইট : খন্দকার মিডিয়া গ্রুপ

 বাল্যবিবাহ রোধ করুন, মাদক মুক্ত সমাজ গড়ুন।

ব্রেকিং নিউজ :